Saturday, 24 February 2018

First Pillar Of Islam Touhid Episode-5(ইসলামের প্রথম রুকুন তাওহীদ পর্ব -5)

(আসুন আমরা ইসলামের প্রথম রুকুন তাওহীদ সমন্ধে জানব )

                                           পর্ব -৫

                         লেখকঃ -মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব ,

৪১ - আল্লাহর নেয়ামত অস্বীকার করার পরিণাম


১। আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেছেন

يَعْرِفُونَ نِعْمَةَ اللَّهِ ثُمَّ يُنْكِرُونَهَا وَأَكْثَرُهُمُ الْكَافِرُونَ ﴿النحل:83﴾

‘‘তারা আল্ল­াহর নেয়ামত চিনে, অতঃপর তা অস্বীকার করে।’’ (নাহল : ৮৩)
এর মর্মার্থ বুঝাতে মুজাহিদ বলেন, এর অর্থ হচ্ছে, কোন মানুষের এ কথা বলা ‘এ সম্পদ আমার, যা আমার পূর্ব পুরুষ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি।’ আ’উন ইবনে আবদিল্ল­াহ বলেন, ‘এর অর্থ হচ্ছে, কোন ব্যক্তির এ কথা বলা, ‘অমুক ব্যক্তি না হলে এমনটি হতোনা।’ ইবনে কুতাইবা এর ব্যাখ্যায় বলেন, ‘মুশরিকরা বলে, ‘‘এটা হয়েছে আমাদের ইলাহদের সুপারিশের বদৌলতে।’’
আবু আববাস যায়েদ ইবনে খালেদের হাদীসে- যাতে একথা আছে, ‘আল্ল­াহ তা’আলা বলেন,
أصبح من عبادى مؤمن بى وكافر
‘‘আমার কোন বান্দার ভোরে নিদ্রা ভঙ্গ হয় মোমিন অবস্থায়, আবার কারো ভোর হয় কাফির অবস্থায়’’- উল্লেখ করে বলেন, এ ধরনের অনেক বক্তব্য কুরআন ও সুন্নায় উলে­খ করা হয়েছে। যে ব্যক্তি নেয়ামত দানের বিষয়টি গাইরুল­াহর সাথে সম্পৃক্ত করে এবং আল্ল­াহর সাথে কাউকে শরিক করে, আল্ল­াহ তার নিন্দা করেন।
উপরোক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় কোন কোন সালাফে- সালেহীন বলেন, বিষয়টি মুশরিকদের এ কথার মতোই, ‘অঘটন থেকে বাঁচার কারণ হচ্ছে অনুকুল বাতাস, আর মাঝির বিচক্ষণতা’ এ ধরনের আরো অনেক কথা রয়েছে যা সাধারণ মানুষেরমুখে বহুল প্রচলিত।
এ অধ্যায় থেকে নিম্ন বর্ণিত বিষয়গুলো জানা যায়ঃ
১। নেয়ামত সংক্রান্ত জ্ঞান এবং তা অস্বীকার করার ব্যাখ্যা।
২। জেনে- শুনে আল্ল­াহর নেয়ামত অস্বীকারের বিষয়টি মানুষের মুখে বহুল প্রচলিত।
৩। মানুষের মুখে বহুল পরিচলিত এসব কথা আল্লাহর নেয়ামত অস্বীকার করারই শামিল।
৪। অন্তরে দুটি বিপরীতধর্মী বিষয়ের সমাবেশ।

৪২ - আল্ল­াহ তাআলার সাথে কাউকে শরিক না করা


। আল্ল­াহ তাআলা এরশাদ করেছেন,

فَلَا تَجْعَلُوا لِلَّهِ أَنْدَادًا وَأَنْتُمْ تَعْلَمُونَ ﴿البقرة:22﴾

‘‘অতএব জেনে শুনে তোমরা আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক করো না।’’
২। এ আয়াতের ব্যাখ্যায় ইবনে আববাস রা. বলেন أنداد [আন্দাদ] হচ্ছে এমন শিরক যা অন্ধকার রাত্রে নির্মল কাল পাথরের উপর পিপিলিকার পদচারণার চেয়েও সুক্ষ্ম। এর উদাহরণ হচ্ছে, তোমার এ কথা বলা, ‘আল্লাহর কসম এবং হে অমুক, তোমার জীবনের কসম, আমার জীবনের কসম।’ ‘যদি ছোট্ট কুকুরটি না থাকতো, তাহলে অবশ্যই আমাদের ঘরে চোর প্রবেশ করতো।’ ‘হাঁসটি যদি ঘরে না থাকতো, তাহলে অবশ্যই চোর আসতো।’ কোন ব্যক্তি তার সাথীকে এ কথা বলা,
‘আল্ল­াহ তাআলা এবং তুমি যা ইচ্ছা করেছো।’ কোন ব্যক্তির এ কথা বলা, ‘আল্ল­াহ এবং অমুক ব্যক্তি যদি না থাকে, তাহলে অমুক ব্যক্তিকে এ কাজে রেখো না।’ এগুলো সবই শিরক। (ইবনে আবি হাতেম)
৩। ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল­াম এরশাদ করেছেন,

من حلف بغير الله فقد كفر أو أشرك (رواه الترمذى وحسنه وصححه الحاكم)

‘‘যে ব্যক্তি গাইরুল­াহর নামে শপথ করলো, সে কুফরী অথবা শিরক করলো।’’ (তিরমিজি)
৪। ইবনে মাসউদ রা. বলেছেন,

لأن أخلف بالله كاذبا أحب إلي من أحلف بغيره صادقا

‘‘ আল্ল­াহর নামে মিথ্যা কসম করা আমার কাছে গাইরুল­াহর নামে সত্য কসম করার চেয়ে বেশী পছন্দনীয়। হুযাইফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল­াম এরশাদ করেছেন,

لا تقولوا: ماشاء الله وشاء فلان ولكن قولوأ ماشاء الله ثم شاء فلان (رواه أبوداد)

‘আল্ল­াহ এবং অমুক ব্যক্তি যা চেয়েছেন’ এ কথা তোমরা বলো না। বরং এ কথা বলো, ‘আল্ল­াহ যা চেয়েছেন অতঃপর অমুক ব্যক্তি যা চেয়েছে’ (আবু দাউদ)
ইবরাহীম নখয়ী থেকে এ কথা বর্নিত আছে যে, أعوذبالله وبك অর্থাৎ ‘আমি আল্ল­াহ এবং আপনার কাছে আশ্রয় চাই’ এ কথা বলা তিনি অপছন্দ করতেন। আর أعوذ بالله ثم بك অর্থাৎ ‘আমি আল্ল­াহর কাছে আশ্রয় চাই অতঃপর আপনার কাছে আশ্রয় চাই।’ এ কথা বলা তিনি জায়েম মনে করতেন। তিনি আরো বলেন, لولا الله ثم فلان ‘যদি আল্ল­াহ অতঃপর অমুক না হয়’ একথা বলে, কিন্তু لولا الله وفلان অর্থাৎ ‘যদি আল্ল­াহ এবং অমুক না হয়’ এ কথা বলো না।
এ অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জানা যায় .
১। আল্ল­াহর সাথে শরিক করা সংক্রান্ত সূরা বাকারার উল্লেখিত আয়াতের তাফসীর।
২। শিরকে আকবার অর্থাৎ বড় শিরকের ব্যাপারে নাযিলকৃত আয়াতকে সাহাবায়ে কেরাম ছোট শিরকের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য বলে তাফসীর করেছেন।
৩। গাইরুল­াহর নামে কসম করা শিরক।
৪। গাইরুল­াহর নামে সত্য কসম করা, আল্লাহর নামে মিথ্যা কসম করার চেয়েও জঘন্য গুনাহ।
৫। বাক্যস্থিত و এবং ثم এর মধ্যে পার্থক্য।

৪৩ - আল্লাহর নামে কসম করে সন্তুষ্ট না থাকার পরিণাম


১। ইবনে ওমর রা. থেকে বর্নিত আছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল­াম এরশাদ করেছেন,

لا تحلفوا بابائكم من حلف بالله فليصدق ومن حلف له با لله فليرض وم لم يرض فليس من الله. (رواه ابن ماجه بسند حسن)

‘‘তোমরা তোমাদের বাপ- দাদার নামে কসম করো না, যে ব্যক্তি আল্লাহর নামে কসম করে, তার উচিৎ কসমকে বাস্তবায়িত করা। আর যে ব্যক্তির উদ্দেশ্যে আল্ল­াহর নামে কসম করা হলো, তার উচিৎ উক্ত কসমে সন্তুষ্ট থাকা। আল্ল­াহর কসমে যে ব্যক্তি সন্তুষ্ট হলো না, আল্লাহর পক্ষ থেকে তার কল্যাণের কোন আশা নেই।’’ (ইবনে মাজা)
১। বাপ-দাদার নামে কসম করার উপর নিষেধাজ্ঞা।
২। যার জন্য আল্ল­াহর নামে কসম করা হলো, তার প্রতি [কসমের বিষয়ে] সন্তুষ্ট থাকার নির্দেশ।
৩। আল্ল­াহর নামে কসম করার পর, যে উহাতে সন্তুষ্ট থাকে না, তার প্রতি ভয় প্রদর্শন ও হুশিয়ারি উচ্চারণ।

৪৪ - ‘আল্ল­াহ এবং আপনি যা চেয়েছেন’ বলা


১- কুতাইলা হতে বর্ণিত আছে, একজন ইহুদী রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল­াম এর কাছে এসে বললো, ‘আপনারাও আল্ল­াহর সাথে শিরক করে থাকেন।’ কারণ আপনারা বলে থাকেন, ماشاءالله وشئت আল্ল­াহ এবং আপনি যা চেয়েছেন। আপনারা আরো বলে থাকেন والكعبة অর্থাৎ কাবার কসম। এরপর রাসূল সাল্ল­াল্ল­াহু আলাইহি ওয়াসাল­াম বললেন, মুসলমানদের মধ্যে যারা কসম বা হলফ করতে চায়, তারা যেন বলে ورب الكعبة ‘কাবার রবের কসম আর যেন ماشاء الله ثم شئت আল্ল­াহ যা চেয়েছেন অতঃপর আপনি যা চেয়েছেন’ একথা বলে। (নাসায়ী)
২। ইবনে আববাস রা. হতে আরো একটি হাদীসে বর্ণিত আছে, এক ব্যক্তি রাসূল সাল্ল­াল্ল­াহু আলাইহি ওয়াসাল­াম এর উদ্দেশ্যে বললো, ماشاء الله وشئت[আপনি এবং আল্ল­াহ যা ইচ্ছা করেছেন] তখন রাসূল সাল্ল­াল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্ল­াম বললেন, أجعلتنى لله ندا ‘‘তুমি কি আল্লাহর সাথে আমাকে শরিক করে ফেলেছো?’’ আসলে আল্ল­াহ যা ইচ্ছা করেছেন, তা একক ভাবেই করেছেন।
৩। আয়েশা রা. এর মায়ের দিক দিয়ে ভাই, তোফায়েল থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি স্বপ্নে দেখতে পেলাম, আমি কয়েকজন ইয়াহুদীর কাছে এসেছি। আমি তাদেরকে বললাম, তোমরা অবশ্যই একটা ভাল জাতি, যদি তোমরা ওযাইরকে আল্ল­াহর পুত্র না বলতে। তারা বললো, ‘তোমরাও অবশ্যই একটি ভাল জাতি যদি তোমরা ماشاء الله وشاء محمد [আল্ল­াহ যা ইচ্ছা করেছেন এবং মুহাম্মদ যা ইচ্ছা করেছেন] এ কথা না বলতে! অতঃপর নাসারাদের কিছু লোকের কাছে আমি গেলাম এবং বললাম, ‘ঈসা আ. আল্ল­াহর পুত্র’ এ কথা না বললে তোমরা একটি উত্তম জাতি হতে। তারা বললো, ‘তোমরাও ভাল জাতি হতে, যদি তোমরা এ কথা না বলতে, ‘আল্লাহ যা ইচ্ছা করেছেন এবং মুহাম্মদ যা ইচ্ছা করেছেন।’ সকালে এ (স্বপ্নের) খবর যাকে পেলাম তাকে দিলাম। তারপর রাসূল সাল্ল­াল্লা­হু আলাইহি ওয়াসাল্ল­াম এর কাছে এলাম এবং তাকে আমার স্বপ্নের কথা বললাম। তিনি বললেন, ‘এ স্বপ্নের কথা কি আর কাউকে বলেছো?’’ বললাম, হ্যাঁ। তখন তিনি আল্ল­াহর প্রশংসা করলেন এবং গুণ বর্ণনা করলেন। তারপর বললেন, ‘‘তোফায়েল একটা স্বপ্ন দেখেছে, যার খবর তোমাদের মধ্যে যাকে বলার বলেছে। তোমরা এমন কথাই বলেছো, যা বলতে আমাকে নিষেধ করা হয়েছে। আর আমিও তোমাদেরকে এভাবে বলতে নিষেধ করছি। অতএব তোমরা ماشاء الله وشاء محمد অর্থাৎ ‘আল্লাহ যা ইচ্ছা করেছেন এবং মুহাম্মদ স. যা ইচ্ছা করেছেন’ একথা বলো না বরং তোমরা বলো, ماشاء الله وحده অর্থাৎ ‘একক আল্লাহ যা ইচ্ছা করেছেন।’’
এ অধ্যায় থেকে নিম্ন বর্ণিত বিষয়গুলো জানা যায় .
১। ছোট শিরক সম্পর্কে ইহুদীরাও অবগত আছে।
২। কুপ্রবৃত্তি সম্পর্কে মানুষের উপলব্ধি থাকা।
৩। রাসূল সাল্ল­াল্ল­াহু আলাইহি ওয়াসাল্ল­াম এর উক্তি أجعلتنى لله ندا ‘তুমি কি আমাকে আল্ল­াহর শরিক বানিয়েছো?’ [অর্থাৎ ماشاء الله وشئت এ কথা বললেই যদি শিরক হয়] তাহলে সে ব্যক্তি অবস্থা কি দাঁড়ায়, যে ব্যক্তি বলে, يا أكرم الخلق ما لي من ألوذبه سواك হে সৃষ্টির সেরা, আপনি ছাড়া আমার আশ্রয়দাতা কেউ নেই এবং [ এ কবিতাংশের] পরবর্তী দুটি লাইন। [অর্থাৎ উপরোক্ত কথা বললে অবশ্যই বড় ধরনের শিরকী গুনাহ হবে।]
৪। নবী সাল্ল­াল­াহু আলাইহি ওয়াসাল্ল­াম এর বাণী يمتعنى كذا وكذا দ্বারা বুঝা যায় যে, এটা শিরকে আকবার [বড় শিরক] এর অন্তর্ভূক্ত নয়।
৫। নেক স্বপ্ন অহীর শ্রেণীর্ভূক্ত।
৬। স্বপ্ন শরিয়তের কোন কোন বিধান জারির কারণ হতে পারে।

৪৫ - যে ব্যক্তি যমানাকে গালি দেয় সে আল্লাহকে কষ্ট দেয়


১। আল্ল­াহ তাআলা এরশাদ করেছেন,

وَقَالُوا مَا هِيَ إِلَّا حَيَاتُنَا الدُّنْيَا نَمُوتُ وَنَحْيَا وَمَا يُهْلِكُنَا إِلَّا الدَّهْرُ (الجاثية: 24)

‘‘অবিশ্বাসীরা বলে, ‘শুধু দুনিয়ার জীবনই আমাদের জীবন। আমরা এখানেই মরি ও বাঁচি। যমানা ব্যতীত অন্য কিছুই আমাদেরকে ধ্বংস করতে পারে না।’’ (জাসিয়া : ২৪)
২। সহীহ হাদীসে আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত আছে, রাসূল সাল্ল­াল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল­াম বলেছেন, আল্ল­াহ তাআলা এরশাদ করেন,

يؤذيني ابن آدم يسب الدهر وأنا الدهر، أقلب الليل والنهار.

لا تسبوا الدهر فإن الله هو الدهر

‘‘তোমরা যমানাকে গালি দিওনা। কারণ, আল্ল­াহই হচ্ছেন যমানা।’’
এ অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জানা যায়.
১। কাল বা যমানাকে গালি দেয়া নিষেধ।
২। যমানাকে গালি দেয়া আল্ল­াহকে কষ্ট দেয়ারই নামান্তর।
৩। فإن الله هو الدهر ‘আল্ল­াহই হচ্ছেন যমানা’ রাসূল সাল্লাল্ল­াহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এর বাণীর মধ্যে গভীর চিন্তার বিষয় নিহিত আছে।
৪। বান্দার অন্তরে আল্ল­াহকে গালি দেয়ার ইচ্ছা না থাকলেও অসাবধনতা বশতঃ মনের অগোচরে তাঁকে গালি দিয়ে ফেলতে পারে।

৪৬ - কাযীউল কুযাত [মহা বিচারক] প্রভৃতি নামকরণ প্রসংগে


১। আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত সহীহ হাদীসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেছেন,

إن أخنع اسم عند الله رجل تسمى ملك الأملاك، لا مالك إلا الله.

‘‘আল্ল­াহ তাআলার কাছে ঐ ব্যক্তির নাম সবচেয়ে নিকৃষ্ট, যার নামকরণ করা হয় ‘রাজাধিরাজ’ বা ‘প্রভূর প্রভূ’। আল্ল­াহ ব্যতীত কোন প্রভূ নেই’’। (বুখারি)
সুফিয়ান সওরী বলেছেন, ‘রাজাধিরাজ’ কথাটি ‘শাহানশাহ’ এর মতই একটি নাম। আরো একটি বর্ণনা মতে রাসূল সাল্ল­াল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্ল­াম এরশাদ করেছন-

أغيظ رجل على الله يوم القيامة وأخبيه

‘‘কেয়ামতের দিন আল্ল­াহর কাছে সবচেয়ে নিকৃষ্ট এবং খারাপ ব্যক্তি হচ্ছে [যার নামকরণ করা হচ্ছে রাজাধিরাজ]’। উল্লেখিত হাদীসে أخنع শব্দের অর্থ হচ্ছে সবচেয়ে নিকৃষ্ট।
এ অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জানা যায়.
১। ‘রাজাধিরাজ’ নামকরণের প্রতি নিষেধাজ্ঞা।
২। ‘রাজাধিরাজ’ এর অর্থ সুফিয়ান সওরী কর্তৃক বর্ণিত ‘শাহানশাহ’ এর অর্থের অনুরূপ।
৩। বর্ণিত ব্যাপারে এবং এ জাতীয় বিষয়ে সাবধানতা অবলম্বন করা। এক্ষেত্রে অন্তরে কি নিয়ত আছে তা বিবেচ্য নয়।
৪। বুদ্ধিমত্তা ও বিচক্ষণতা সবই আল্ল­াহর উদ্দেশ্যে হওয়া বাঞ্ছনীয়।

৪৭ - আল্লাহর সম্মানার্থে [শিরকী] নামের পরিবর্তন


১। আবু শুরাইহ হতে বর্ণিত আছে এক সময় তার কুনিয়াত ছিল আবুল হাকাম [জ্ঞানের পিতা] রাসূল সাল্ল­াল্ল­াহু আলাইহি ওয়া সাল্ল­াম তাকে উদ্দেশ্য করে বললেন,

إن الله هو الحكم وإليه الحكم

‘‘আল্লাহ তাআলাই হচ্ছে জ্ঞান সত্তা এবং তিনিই জ্ঞানের আধার’’ তখন আবু শুরাইহ বললেন, ‘আমার কওমের লোকেরা যখন কোন বিষয়ে মতবিরোধ করে, তখন ফয়সালার জন্য আমার কাছে চলে আসে। তারপর আমি তাদের মধ্যে ফয়সালা করে দেই। এতে উভয় পক্ষই সন্তুষ্ট হয়ে যায়।’ রাসুল সাল্ল­াল্ল­াহু আলাইহি ওয়া সাল্ল­াম একথা শুনে বললেন, এটা কতইনা ভাল! তোমার কি সন্তানাদি আছে? আমি বললাম, ‘শুরাইহ’ ‘মুসলিম’ এবং ‘আবদুল্লাহ’ নামের তিনটি ছেলে আছে।’ তিনি বললেন, ‘তাদের মধ্যে সবার বড় কে?’ আমি বললাম,‘শুরাইহ’। তিনি বললেন, ‘‘অতএব তুমি আবু শুরাইহ’’ [শুরাইহের পিতা] (আবু দাউদ)।
এ অধ্যায় থেকে নিম্ন বর্ণিত বিষয়গুলো জানা যায় .
১। আল্ল­াহর আসমা ও সিফাত অর্থাৎ নাম ও গুণাবলীর সম্মান করা; যদিও এর অর্থ বান্দার উদ্দেশ্য না হয়।        
২। আল্ল­াহর নাম ও সিফাতের সম্মানার্থে নাম পরিবর্তন করা।
৩। কুনিয়াতের জন্য বড় সন্তানের নাম পছন্দ করা।

৪৮ - আল্লাহর যিকির, কুরআন এবং রাসূল সম্পর্কিত কোন বিষয় নিয়ে খেল- তামাশা করা প্রসংগে


১। আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেছেন,

وَلَئِنْ سَأَلْتَهُمْ لَيَقُولُنَّ إِنَّمَا كُنَّا نَخُوضُ وَنَلْعَبُ (التوبة :65)

‘‘আপনি যদি তাদেরকে জিজ্ঞেস করেন, তবে তারা অবশ্যই বলবে, আমরা খেল- তামাশা করছিলাম।’’ (ফুসসিলাত . ৫০)
২। ইবনে ওমর, মুহাম্মদ বিন কা’ব, যায়েদ বিন আসলাম এবং কাতাদাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে, [তাদের একের কথা অপরের কথার মধ্যে সামঞ্জস্য আছে] তাবুক যুদ্ধে একজন লোক বললো, এ ক্বারীদের [কুরআন পাঠকারীর] মত এত অধিক পেটুক, কথায় এত অধিক মিথ্যুক এবং যুদ্ধের ময়দানে শত্রুর সাক্ষাতে এত অধিক ভীরু আর কোন লোক দেখিনি। অর্থাৎ লোকটি তার কথা দ্বারা মুহাম্মদ সাল্ল­াল্ল­াহু আলাইহি ওয়া সাল্ল­াম এবং তাঁর ক্বারী সাহাবায়ে কেরামের দিকে ইঙ্গিত করেছিলো। আওফ বিন মালেক লোকটিকে বললেন, ‘তুমি মিথ্যা কথা বলেছো। কারণ, তুমি মুনাফিক।’
আমি অবশ্যই রাসূল সাল্ল­াল্ল­াহু আলাইহি ওয়াসাল্ল­ামকে এ খবর জানাবো। আওফ তখন এ খবর জানানোর জন্য রাসূল সাল্ল­াল্ল­াহু আলাইহি ওয়াসাল্ল­াম এর কাছে চলে গেলেন। গিয়ে দেখলেন কুরআন তাঁর চেয়েও অগ্রগামী [অর্থাৎ আওফ পৌছার পূর্বেই অহীর মাধ্যমে রাসূল সাল্ল­াল্ল­াহু আলাইহি ওয়াসাল্ল­াম ব্যাপারটি জেনে ফেলেছেন] এ ফাঁকে মুনাফিক লোকটি তার উটে চড়ে রাসূল সাল্ল­াল্ল­াহু আলাইহি ওয়াসাল্ল­াম এর কাছে চলে আসলো। তারপর সে বললো, ‘হে আল্ল­াহর রাসূল, চলার পথে আমরা অন্যান্য পথচারীদের মত পরস্পরের হাসি, রং- তামাশা করছিলাম’ যাতে করে আমাদের পথ চলার কষ্ট লাঘব হয়। ইবনে ওমর (রাঃ) বলেন, এর উটের গদির রশির সাথে লেগে আমি যেন তার দিকে তাকিয়ে দেখছিলাম। পাথর তার পায়ের উপর পড়ছিলো, আর সে বলছিলো, ‘আমরা হাসি ঠাট্টা করছিলাম।’ তখন রাসূল সাল্ল­াল্ল­াহু আলাইহি ওয়াসাল্ল­াম তাকে উদ্দেশ্য করে বললেন,

أبالله وآياته ورسوله كنتم تستهزئون

‘‘তোমরা কি আল্ল­াহ, তাঁর আয়াত [কুরআন] এবং তাঁর রাসূলের সাথে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করছিলে?
তিনি তার দিকে [মুনাফিকের দিকে] দৃষ্টিও দেননি। এর অতিরিক্ত কোন কথাও বলেননি।
এ অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জানা যায় :
১। এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে একথা অনুধাবন করা যে, আল্লাহ, কুরআন ও রাসূলের সাথে যারা ঠাট্টা বিদ্রুপ করে তারা কাফের।
২। এ ঘটনা সংশি­ষ্ট আয়াতের তাফসীর ঐ ব্যক্তির জন্য যে, এ ধরনের কাজ করে অর্থাৎ আল্ল­াহ, কুরআন ও রাসূলের সাথে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করে।
৩। চোগলখুরী এবং আল্ল­াহ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যে নসীহতের মধ্যে পার্থক্য।
৪। এমন ওযরও রয়েছে যা গ্রহণ করা উচিৎ নয়।

৪৯ - সূরা ফুসসিলাতের ৫০ নং আয়াতের তাফসীর ও আশ্চর্য ধরনের কিসসা এবং তাতে নিহিত উপদেশাবলী


১। আল্ল­াহ তাআলার বাণী .

وَلَئِنْ أَذَقْنَاهُ رَحْمَةً مِنَّا مِنْ بَعْدِ ضَرَّاءَ مَسَّتْهُ لَيَقُولَنَّ هَذَا لِي (فصلت:50)

‘‘দুঃখ- দুর্দশার পর যদি আমি মানুষকে আমার রহমতের আস্বাদ গ্রহণ করাই, তাহলে সে অবশ্যই বলে, এ নেয়ামত আমারই জন্য হয়েছে।’’ (ফুসসিলাত . ৫০) বিখ্যাত মুফাসসির মুজাহিদ বলেন, ‘ইহা আমরই জন্য’ এর অর্থ হচ্ছে, ‘আমার নেক আমলের বদৌলতেই এ নেয়ামত দান করা হয়েছে, আমিই এর হকদার।’ ইবনে আববাস (রাঃ) বলেন, সে এ কথা বলতে চায়, ‘নেয়ামত আমার আমলের কারণেই’ এসেছে অর্থাৎ এর প্রকৃত হকদার আমিই।
আল্ল­াহ তাআলা আরো বলেছেন,

قَالَ إِنَّمَا أُوتِيتُهُ عَلَى عِلْمٍ عِنْدِي (القصص :78)

‘‘সে বলে, ‘নিশ্চয়ই এ নেয়ামত আমার ইলম ও জ্ঞানের জন্য আমাকে দেয়া হয়েছে।’’ (কাসাসঃ৭৮)
কাতাদাহ (রাঃ) বলেন, ‘উপার্জনের রকমারী পন্থা সম্পর্কিত জ্ঞান থাকার কারণে আমি এ নেয়ামত প্রাপ্ত হয়েছি।’ অন্যান্য মুফাসসিরগণ বলেন ‘আল্লাহ তাআলার ইলম মোতাবেক আমি এর [নেয়ামতের] হকদার। আমার মর্যাদার বদৌলতেই এ নেয়ামত প্রাপ্ত হয়েছি।’
মুজাহিদের এ কথার অর্থই উপরোক্ত বক্তব্য দ্বারা বুঝানো হয়েছে।
২। আবু হুরাইয়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি রাসূল সাল্ল­াল্ল­াহু আলাইহি ওয়া সাল্ল­ামকে এ কথা বলতে শুনেছেন,

ثلاثة من بنى إسرائيل : أبرص وأقرع و أعمى فأراد الله أن يبتليهم فبعث إليهم ملكا فأتى الأرض ... إلى آخر الحديث.

‘‘বর্ণিত ইসরাইল বংশে তিনজন লোক ছিল . যাদের একজন ছিল কুষ্টরোগী, আরেকজন টাক পড়া, অপরজন ছিল অন্ধ। এমতাবস্থায় আল্ল­াহ তাআলা তাদেরকে পরীক্ষা করতে চাইলেন। তখন তাদের কাছে তিনি ফেরেস্তা পাঠালেন। কুষ্টরোগীর কাছে ফেরেস্তা এসে জিজ্ঞেস করলো, ‘তোমার সবচেয়ে প্রিয় জিনিস কি? সে বললো, ‘সুন্দর চেহারা এবং সুন্দর ত্বক [শরীরের চামড়া]। আর যে রোগের কারণে মানুষ আমাকে ঘৃণা করে তা থেকে মুক্তি আমার কাম্য। তখন ফেরেস্তা তার শরীরে হাত বুলিয়ে দিলো। এতে তার রোগ দূর হয়ে গেলো তাকে সুন্দর রং আর
সুন্দর ত্বক দেয়া হলো। তারপর ফেরেস্তা তাকে জিজ্ঞেস করলো, ‘‘তোমার প্রিয় সম্পদ কি? সে বললো, ‘‘উট অথবা গরু’’। [ইসহাক অর্থাৎ হাদীস বর্ণনাকারী উট কিংবা গরু এ দু'য়ের মধ্যে সন্দেহ করছেন] তখন তাকে দশটি গর্ভবতী উট দেয়া হলো। ফিরিস্তা তার জন্য দোয়া করে বললো, ‘‘আল্ল­াহ এ সম্পদে তোমাকে বরকত দান করুন।’’
তারপর ফেরেস্তা টাক পড়া লোকটির কাছে গিয়ে বললো, ‘‘তোমার কাছে সবচেয়ে প্রিয় জিনিস কি?’’ লোকটি বললো, ‘‘আমার প্রিয় জিনিস হচ্ছে সুন্দর চুল। আর লোকজন আমাকে যার জন্য ঘৃণা করে তা থেকে মুক্ত হতে চাই।’’ ফেরেস্তা তখন তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিল। এতে তার মাথার টাক দূর হয়ে গেলো। তাকে সুন্দর চুল দেয়া হলো। অতঃপর ফেরেস্তা তাকে জিজ্ঞেস করলো, ‘‘কোন সম্পদ তোমার কাছে সবচেয়ে বেশী প্রিয়? সে বললো, ‘‘উট অথবা গরু।’’ তখন তাকে গর্ভবতী গাভী দেয়া হলো। ফেরেস্তা তার জন্য দোয়া করে বললো, ‘‘আল্ল­াহ এ সম্পদে তোমাকে বরকত দান করুন। ’’
তারপর ফেরেস্তা অন্ধ লোকটির কাছে এসে বললো, ‘‘তোমার কাছে সবচেয় প্রিয় বস্ত্ত কি?’’ লোকটি বললো, ‘‘আল্ল­াহ যেন আমার দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দেন। যার ফলে আমি লোকজনকে দেখতে পাবো, এটাই আমার প্রিয় জিনিস।’’ ফেরেস্তা তখন তার চোখে হাত বুলিয়ে দিলো। এতে লোকটির দৃষ্টিশক্তি আল্ল­াহ তাআলা ফিরেয়ে দিলেন। ফেরেস্তা তাকে বললো, ‘‘কি সম্পদ তোমার কাছে প্রিয়? সে বললো, ‘‘ছাগল আমার বেশী প্রিয়।’’ তখন তাকে একটি গর্ভবতী ছাগল দেয়া হলো। তারপর ছাগল বংশ বৃদ্ধি করতে লাগলো। এমনিভাবে উট ও গরু বংশ বৃদ্ধি করতে লাগলো। অবশেষে অবস্থা এই দাঁড়ালো যে, একজনের উট দ্বারা মাঠ ভরে গেলো, আরেকজনের গরু দ্বারা মাঠ পূর্ণ হয়ে গেলো এবং আরেকজনের ছাগল দ্বারা মাঠ ভর্তি হয়ে গেলো।
এমতাবস্থায় একদিন ফেরেস্তা তার স্বীয় বিশেষ আকৃতিতে কুষ্ঠ রোগীর কাছে উপস্থিত হয়ে বললো, ‘‘আমি একজন মিসকিন।’’ আমার সফরের সম্বল শেষ হয়ে গেছে [আমি খুবই বিপদগ্রস্ত] আমার গন্তব্যে পৌছার জন্য প্রথমে আল্ল­াহর তারপর আপনার সাহায্য দরকার। যে আল্ল­াহ আপনাকে এত সুন্দর রং এবং সুন্দর ত্বক দান করেছেন, তাঁর নামে আমি আপনার কাছে একটা উট সাহায্য চাই, যাতে আমি নিজ গন্তব্যস্থানে পৌঁছতে পারি। তখন লোকটি বললো, ‘দেখুন, আমার অনেক দায়-দায়িত্ব আছে, হকদার আছে।’ ফেরেস্তা বললো, ‘আমার মনে হয়, আমি আপনাকে চিনি।’ আপনি কি কুষ্ঠ রোগী ছিলেন না? আপনি খুব গরীব ছিলেন? লোকজন আপনাকে খুব ঘৃণা করতো। তারপর আল্লাহ আপনাকে এ সম্পদ দান করেছেন। তখন লোকটি বললো, ‘এ সম্পদ আমার পূর্ব পুরুষ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি। ফেরেস্তা তখন বললো, ‘‘তুমি যদি মিথ্যাবাদী হয়ে থাকো তাহলে আল্ল­াহ যেন তোমাকে পূর্বের অবস্থা ফিরিয়ে দেন।’’
তারপর ফেরেস্তা মাথায় টাক- পড়া লোকটির কাছে গেল এবং ইতিপূর্বে কুষ্ঠরোগীর সাথে যে ধরনের কথা বলেছিলো, তার [টাক পড়া লোকটির] সাথেও সে ধরনের কথা বললো। প্রতি উত্তরে কুষ্ঠরোগী যে ধরনের জবাব দিযেছিলে, এ লোকটিও সেই একই ধরনের জবাব দিলো। তখন ফেরেস্তাও আগের মতই বললো, ‘যদি তুমি মিথ্যাবাদী হও তাহলে আল্ল­াহ তাআলা যেন তোমাকে তোমার পূর্বের অবস্থা ফিরিয়ে দেন।’ অতঃপর ফেরেস্তা স্বীয় আকৃতিতে অন্ধ লোকটির কাছে গিয়ে বললো, ‘আমি এক গরীব মুসাফির। আমার পথের সম্বল নিঃশেষ হয়ে গিয়েছে। প্রথম আল্ল­াহর তারপর আপনার সাহায্য কামনা করছি। যিনি আপনার দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিয়েছেন, তাঁর নামে একটি ‘ছাগল’ আপনার কাছে সাহায্য চাই, যাতে আমার সফরে নিজ গন্তব্যস্থানে পৌছতে পারি।’ তখন লোকটি বললো, ‘আমি অন্ধ ছিলাম। আল্ল­াহ তাআলা আমার দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিয়েছেন। আপনার যা খুশি নিয়ে যান, আর যা খুশি রেখে যান। আল্ল­াহর কসম, আল্ল­াহর নামে আপনি আজ যা নিয়ে যাবেন, তার বিন্দুমাত্র আমি বাধা দেব না।’ তখন ফেরেস্তা বললো, ‘আপনার মাল আপনি রাখুন। আপনাদেরকে শুধুমাত্র পরীক্ষা করা হলো। আপনার আচরণে আল্ল­াহ সন্তুষ্ট হয়েছেন, আপনার সঙ্গীদ্বয়ের আচরণে অসন্তুষ্ট হয়েছেন।’’ (বুখারি ও মুসলিম)
এ অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জানা যায় .
১। সূরা ফুসসিলাতের ৫০ নং আয়াতের তাফসীর।
২। ليقولن هذا لى এর অর্থ।
৩। أوتيته على علم عندى এর অর্থ।
৪। আশ্চর্য ধরনের কিসসা এবং তাতে নিহিত উপদেশাবলী।

৫০ - যেসব নামের মধ্যে গাইরুল­াহর ইবাদতের অর্থ নিহিত রয়েছে সে নাম রাখা হারাম।


১। আল্ল­াহ তাআলার বাণী .

فَلَمَّا آَتَاهُمَا صَالِحًا جَعَلَا لَهُ شُرَكَاءَ فِيمَا آَتَاهُمَا (الأعراف: 190)

‘‘অতঃপর আল্লাহ যখন উভয়কে একটি সুস্থ ও নিখূঁত সন্তান দান করলেন, তখন তারা তাঁর দানের ব্যাপারে অন্যকে তাঁর শরিক গণ্য করতে শুরু করলো।’’ (আ’রাফ . ১৯০)
ইবনে হযম (রহ:) বলেন, ঊলামায়ে কেরাম এ ব্যাপারে একমত হয়েছেন যে, এমন প্রত্যেক নামই হারাম, যা দ্বারা গাইরুল্লাহর ইবাদত করার অর্থ বুঝায়। যেমন, আবদু ওমর, আবদুল কা’বা এবং এ জাতীয় অন্যান্য নাম। তবে আবদুল মোত্তালিব এর ব্যতিক্রম। ইবনে আববাস (রাঃ) এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, ‘আদম আ. যখন বিবি হাওয়ার সাথে মিলিত হলেন, তখন হাওয়া গর্ভবতী হলেন। এমতাবস্থায় শয়তান আদম ও হাওয়ার কাছে এসে বললো, ‘আমি তোমাদের সেই বন্ধু ও সাথী, যে নাকী তোমাদের জান্নাত থেকে বের
করেছে। তোমরা অবশ্যই আমার আনুগত্য করো, নতুবা গর্ভস্থ সন্তানের মাথায় উটের শিং গজিয়ে দিবো, তখন সন্তান তোমার পেট কেটে বের করতে হবে। আমি অবশ্যই একাজ করে ছাড়বো।’’
শয়তান এভাবে তাদেরকে ভয় দেখাচ্ছিল। শয়তান বললো, তোমরা তোমাদের সন্তানের নাম ‘আব্দুল হারিছ’ রেখো। তখন তাঁরা শয়তানের আনুগত্য করতে অস্বীকার করলেন। অতঃপর তাদের একটি মৃত সন্তান ভূমিষ্ট হলো। আবারো বিবি হাওয়া গর্ভবতী হলেন। শয়তানও পুনরায় তাঁদের কাছে এসে পূর্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিলো। এর ফলে তাঁদের অন্তরে সন্তানের প্রতি ভালবাসা তীব্র হয়ে দেখা দিলো। তখন তাঁরা সন্তানের নাম ‘আবদুল হারিস’ রাখলেন। এভাবেই তাঁরা আল্ল­াহ প্রদত্ত নেয়ামতের মধ্যে তাঁর সাথে শরিক করে ফেললেন। এটাই হচ্ছে جعلا له شركاء فيما أتاهما এ আয়াতের তাৎপর্য (ইবনে আবি হাতিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন)
কাতাদাহ থেকে সহীহ সনদে অপর একটি হাদীসে বর্নিত আছে, তিনি বলেন, তাঁরা আল্ল­াহর সাথে শরিক করেছিলেন আনুগত্যের ক্ষেত্রে ইবাদতের ক্ষেত্রে নয়।’
মুজাহিদ থেকে সহীহ সনদে لئن أتينا صالحا এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বর্নিত আছে, তিনি বলেন, সন্তানটি মানুষ না হওয়ার আশংকা তাঁরা [পিতা-মাতা] করেছিলেন। ’
[হাসান, সাঈদ প্রমুখের কাছ থেকে এর অর্থ উল্লেখ করা হয়েছে।]
এ অধ্যায় থেকে নিম্ন বর্ণিত বিষয়গুলো জানা যায়ঃ
১। যেসব নামের মধ্যে গাইরুল­াহর ইবাদতের অর্থ নিহিত রয়েছে সে নাম রাখা হারাম।
২। সূরা আ’রাফের ১৯০ নং আয়াতের তাফসীর।       
৩। আলোচিত অধ্যায়ে বর্ণিত শিরক হচ্ছে শুধুমাত্র নাম রাখার জন্য। এর দ্বারা হাকীকত [অর্থাৎ শিরক করা] উদ্দেশ্য ছিল না।
৪। আল্ল­াহর পক্ষ থেকে একটি নিখূঁত ও পূর্ণাঙ্গ কন্যা সন্তান লাভ করা একজন মানুষের জন্য নেয়ামতের বিষয়।
৫। আল্ল­াহর আনুগত্যের মধ্যে শিরক এবং ইবাদতের মধ্যে শিরকের ব্যাপারে সালাফে-সালেহীন পার্থক্য নির্ধারণ করে দিয়েছেন।
Continue
Share This
Previous Post
Next Post

Pellentesque vitae lectus in mauris sollicitudin ornare sit amet eget ligula. Donec pharetra, arcu eu consectetur semper, est nulla sodales risus, vel efficitur orci justo quis tellus. Phasellus sit amet est pharetra

0 মন্তব্য(গুলি):

thank you for comment

Read More Post