Saturday, 6 January 2018

তুলসী পাতার ব্যবহার :-

তুলসী পাতার ব্যবহার :-
আয়ুর্বেদিক মতে তুলসীপাতা বিভিন্ন ব্যাধি ভালো করে হার্টের অসুখ ইসকিমিয়ার  চিকিৎসায় তুলসীপাতা ভালো কাজ করে। তুলসী পাতা র  কোনো বাঁধাধরা নিয়ম নেই। যখন ইচ্ছা যতগুলি কাঁচা পাতা চিবিয়ে খাওয়া যায়। তুলসী পাতায় চিকিৎসা  বনৌষধির  মধ্যে  তুলসী সর্বৎকৃষ্ট  স্বীকার করা হয়েছে  'মেটেরিয়া মেডিকা '-তে এই  গাছ কে সর্বোচ্চ স্থান দেওয়া  হয়েছে।
দৈনন্দিন জীবনে তুলসীর প্রয়োগ :-
  1. কার্ত্তিক মাসে প্রতিদিন প্রাত:কালে দু-তিনটি করে তুলসীর পাতা খালিপেটে  চিবিয়ে খেলে পুরো বছর কোনও প্রকারে রোগ হবে না। কাত্তিক মাসের আবহাওয়ায় টুসি পাতার প্রয়োগ সর্বদা দেহকে নীরোগ রাখে। 
  2. তুলসী গাছ স্বভাববশত  সাস্তিকতা নিয়ে আসে ও চিত্তের একাগ্রতা আনে। এর কাছে বসলে বা দাঁড়ালে মানসিক একাগ্রতা জন্মে। 
  3. সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহন কালে তুলসীর পাতা খাবার জলে দিলে ও খাদ্যবস্তুতে রেখে দিলে গ্রহণের সময় দূষিত আবহাওয়ার প্রভাব পড়ে  না। 
  4. তুলসীতুলসী গাছ অধ্যাত্বিক শক্তির প্রতীক বলে মণ হয়েছে। তুলসী তলায় প্রদীপ জ্বালালে এবং তুলসীগাছকে প্রদক্ষীন করলে অপূর্ব মানসিক শান্তি প্রাপ্ত হয় যায়। 
  5. তুলসীর গন্ধ রক্তবিকার নাশ করে। 
  6. স্নান করার আগে তুলসীর কিছু পাতা জলে দিয়ে কিছুক্ষন বাদে সেই জলে স্নান করলে কোনও প্রকার চর্মরোগ হয় না। 
  7. খাবার জলের পাত্রে তুলসী পাতা দিয়ে সেই জল পান করলে উদর সংক্রান্ত কোনও রোগ হবে না। 
  8. তুলসীর মালা ,কন্ঠী ধারণ করলে শরীর সর্বদা স্ফূর্তিময় সুস্থ থাকে। 
  9. তুলসী কামবাসনার  ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখে। কামশক্তিকে তো বৃদ্ধি করেই ,কিন্তু সেটা সাত্বিক এবং সীমিত রূপে। 
  10. তুলসীপাতা চিবোলে দাঁতে পোকা লাগে না। দাঁত মজবুত ,উজ্জ্বল হয় এবং দাঁতের আয়ু বৃদ্ধি করে হয়। 
  11. তুলসীপাতার রস নিয়ে মালিশ করলে হাড় শক্ত হয় ,দেহ কান্তিময় হয়।,দেহকে নীরোগ রাখে। সাবান ,তেল,ক্রিম প্রভৃতির স্থলে তুলসীর রস প্রোয়গ করলে নানাপ্রকার দৈহিক সুস্থতা লাভ হয়। 
  • অধিক রজঃস্রাব ---কিছু কিছু স্ত্রী লোকের মাসে ১০/১২দিন রজঃস্রাব হয়ে থাকে কিংবা কিছু আগে পিছে হয়। এরকম হলে তুলসীগাছের মূল তুলে চূর্ন করে নিতে হবে। সাদা ও মিঠা পানের সঙ্গে সেই চূর্ন আধ চামচ দিয়ে খাতে হবে। এই রোগে তুলসী এবং পাঁ একইসঙ্গেই খেতে হবে। এইভাবে প্রায় একমাস খেলে অবশ্যই রোগ আরগ্য হয়। 
  • অধকাপালী ---এটি একপ্রকার মাথার যন্ত্রনা। এটি শুধুমাত্র মাথার অধাংশে হয়ে থাকে।এতে রোগী খুবই কষ্ট পায়। এইরকম হলে -তুলসীর কচি মঞ্জুরি নিয়ে ছায়াতে শুস্ক করে নিতে হবে এবং আল্প্ পেষণ করে নিতে হবে। মাত্র ২গ্রাম মাত্রায় নিয়ে  মধুর সঙ্গে মিশিয়ে চেটে খেতে হবে। এইভাবে ব্যবহার করলে অবশ্যই সুফল পাওয়া যাবে। 
  • চক্ষু উঠা ---চোখ ওঠা একটি সংক্রামক রোগ। ঠান্ডা গরমে ঘোরাফেরার এই রোগ হয়ে থাকে। এই অবস্থায় তুলসিরপাতার রস চোখে কাজলের মতো লাগাতে হবে। এইভাবে দিলে চক্ষু উঠা ,চোখে জল পরা প্রভৃতি আরগ্য লাভ হবে । 
  • কোষ্ঠকাঠিন্য --- পেট পরিষ্কার অর্থাৎ পায়খানা পরিস্কার না হলে।,গলার মধ্যেও তার প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় ,কাশি এবং সেই সঙ্গে মাথা ভার হয়ে থাকে।  এই অবস্থায় ২০ গ্রাম তুলসী পাতার সঙ্গে ৫০ গ্রাম গোলাপি ফিটকিরি চূর্ন করে এক একটি মিত্রের মতো বটিকা তৈরি করে ছায়াতে শুস্ক করে নিতে হবে।এবার এক একটি বটিকা সকালে ও সন্ধ্যায় জলসহ সেবনে কোষ্ঠব্ধতা ,পায়খানার কষ্ট দূর হয়ে যাবে। 
  •   কুষ্ঠরোগ ---এই রোগ হলে , তুলসীর রস নিরন্তর সেবন করা আবশ্যক। যদি আঙুল গেলে যায় ,এবং হাড়ে পর্যন্ত আক্রমণ করে ,তবুও তুলসীর রসের এমন শক্তি যে কুষ্ঠ নীরোগ করে দেয়। যদি শ্বেত কুষ্ট হয় , তাহলে তুলসীর ৫ টি পাতা সকালে চিবিয়ে খেতে হবে।  পাঁচটি পাতা দুপুরে এবং পাঁচটি পাতা সূর্য্যাস্তের  আগে  খেতে হবে বেশ কিছু দিন।  টেস্টে উপকার হয়। তুলসীর গাছের মূলের মাটির সঙ্গে তুলসী পাতা ঘষে দাগের ওপর প্রলেপ দিলে দাগ থাকে না। 
  •  গলিত কুষ্ট হলে ---তুলসীগাছের মূল এবং শুঁঠ চূর্ন গরম জলসহ পান করবে।  তুলসিরপাতার রস ও মধু মিশিয়ে চেটে খেতে হবে।  যদি কুষ্ট খুব বেশি প্রভাব বিস্তার করে , তাহলে তুলসীপাতার রস ও গোমূত্র একত্রে মিশিয়ে সকাল-সন্ধ্যায় পান করতে হবে। 
  • গর্ভরক্ষা ---র্ভাশয়ের গোলমাল হয়ে যদি গর্ভপাত হয়ে যায় ,তাহলে তুলসীর বীজ ২৫ গ্রাম নিয়ে পেষন করে কাপড়ের ছেঁকে নিতে হবে। মাসিক ধর্মের দিনগুলিতে এইভাবে তিন মাত্রায় ভাগ করে প্রত্যহ একবার করে তিনবার খাওয়ালে উপকার হয়। 
  • গর্ভ নিয়ন্ত্রণ ---তুলসী গর্ভনিরোধ ও করে থাকে।  মাসিক ধর্ম সেই হলে তুলসীর পাতা সিদ্ধ করে সেই ক্কাথ তিন দিন পর্যন্ত খাওয়ালে গর্ভ সঞ্চার হবে না। 
  • যৌবন  স্থিরীকরন ---পিপুলের মূল ২০ গ্রাম ও সমান মাত্রায় অশ্বগন্ধা ,টপিচিনি ,তাল মাখানো ,নাগকেশর নিয়ে ১০০ গ্রাম তুলসীপাতার সঙ্গে সব একত্রে পেসন করে ,২৫০গ্রাম মধু মিশিয়ে আধ কিলো চিনি দিয়ে চাটনি তৈরি করে ঠান্ডা করতে হবে ,এবার ওতে সব দিয়ে মিশিয়ে জয়িত্রী ,ছোট এলাচ ও কেশর দশ গ্রাম পরিমানে প্রত্যেকটি নিয়ে পেষন করতে হবে। তারপর সব একত্রে মিশিয়ে একটি স্বচ্ছ কাঁচের পাত্রে রাখতে হবে।  এটি  হলো তুলসীর টনিক।  শীতের দিনে প্রত্যহ ১০ গ্রাম সকালে চেটে খেয়ে  ইদুসনু  গরম দুধ খেলে যৌবন  দীর্ঘস্থায়ী হয়। 
  • দাঁতের বেদনা --- দাঁতের যন্ত্রনা খুবই কষ্টদায়ক।দাঁতের যন্ত্রনা হলে ---তুলসীপাতা ও কালো মরিচ পেষণ করে বাতিক তৈরি করতে হবে এবং যে ডেট যন্ত্রনা হচ্ছে , তার তলায় চেপে রাখলে দাঁতের যন্ত্রনা কমে যাবে। 
  • দাঁতের পোকা---তুলসীপাতার রসের সঙ্গে কর্পূর মিশিয়ে তাতে তুলো ভিজিয়ে দাঁতের গোড়ায় রাখতে হবে। 
  • পাথুরি ---এই রোগ হলে প্রস্রাবে  কষ্ট দেখা দেয়। তলপেটে বেদনা দেখা দেয়। এই রোগ হলে রোগীকে এমনভাবে বসাতে হবে ,যেন রোগীর নিম্ন অঙ্গ (কোমর থেকে ) নীচু ভাবে থাকে। এবার তুলসীমঞ্জরীর ক্কাথ তৈরি করার জন্য আঁচে বসাতে হবে। তখন ক্কথের পাত্রটি সহ রোগীর কোমরে নিচে রেখে ওপরে চাপা দিতে হবে। যেন রোগীর নিম্নাঙ্গে ভাপ লাগে।  ভাপ যেমন মূত্র ইন্দ্রিয়ের  ওপর ছড়িয়ে পড়বে ,সেই  রকম পাথুরি গলে  পিচ্ছিল হয়ে মূত্র দ্বার দিয়ে বেরিয়ে যাবে। বিনা অস্ত্রপচারে এই প্রয়োগের সাহায্যে পাথুরি বেরিয়ে যাবে। 
  • জন্ডিস ---দেহে রক্ত কম হলে এই রোগ হয়।  সারা দেহে হলুদ বর্ণ হয়ে যায়। একে  নাব্য ও ইংরেজিতে জন্ডিস রোগ।  মূলো এবং তুলসী রক্তাল্পতা দূর করতে সর্বশেষ্ট তুলসীর রস ১০গ্রাম এবং ৫০গ্রাম মুলোর রস একত্রে মিশিয়ে , তাতে গুড় মিশিয়ে খেলে আরগ্য হয় 
  • প্রসব কষ্ট ---তুলসীপাতার রস খাওয়ালে প্রসবের কষ্টকর বেদনা কমে ও প্রসব হয়ে যাবে।তুলসীর বীজ জলে ৩/৪ ঘন্টা ভিজিয়ে রাখার পর ,ছেঁকে নিয়ে তার সঙ্গে মিছরির চূর্ণ মিশিয়ে সেবন করলে ,প্রসবের বেদনা কম হয়। 
  • স্তনদুগ্দ্ধ বৃদ্ধি ---শিশুদের জন্য মায়ের স্তনে প্রচুর দুধ থাকার প্রয়োজন। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় ,প্রসূতির স্তনে দুগ্দ্ধ থাকে না ,আর থাকলেও কম থাকে। এই অবস্থায় তুলসীপাতার রস এবং মাকাই পাতার রস প্রত্যেকটি ১০মিলিলিটার এবং অশ্ব গন্ধা রস ও শাঁস ৫ মিলি ও মধু  মিশিয়ে ১সপ্তাহ পর্যন্ত প্রসূতিকে খেতে দিলে স্তন দুগ্দ্ধ বৃদ্ধি হয়। 
  • চুল উঠে যাওয়া ---তুলসীর ২১ টি পাতা এবং আমলকি চূর্ন ১০ গ্রাম একটি বড় পাত্রে ঢেলে জল মিশ্রিত করে, দশ -পনের মিনিট পরে সেই জলে মাথা ভালোভাবে নিতে হবে যাতে চুলের গোড়ায় সেই জল লাগে। যখন মাথা শুকনো হয়ে যাবে তখন ভালোভাবে পরিষ্কার জলে মাথা ধুয়ে নারকেল তেল লাগাতে হবে। এতে চুলের গোড়া শক্ত হবে ও চুল কালো হবে। 
  • টাকপড়া ---এটি একটি ভয়ানক রোগ। রক্ত দুস্তি প্রভৃতি নানা কারনে এটি হয়ে থাকে। পিপুলের কলি ও তুসিপাতা একসঙ্গে পেষণ করলে ত্বকের ওপর লাগালে টাকপড়া আরগ্য হয়। 
  • বিদ্যুতের শক লাগা ---বিজলি অথাৎ ইলেকট্রিক কারেন্ট লেগে যদি কেউ অজ্ঞান হয়ে যায় ,তাহলে মাথায় ,মেরুদণ্ডে তুলসী রস মর্দন করতে থাকলে কিছুক্ষনের মধ্যেই জ্ঞান ফায়ার আসবে। পায়ের তলাতেও তুলসীর রস রগড়াতে হবে। হাতের তলাতেও এই ভাবে দিতে হবে। 
  • মুখের দুর্গন্ধ ---খাবার পর একটি বা দুটি পাতা মুখে রেখে চিবিয়ে কবে। মুখের দুর্গন্ধ কেটে যাবে দাঁতের পোকা -নষ্ট হবে ও পোকা লাগবে না। চ্যালের দোষ হলে নষ্ট হয়ে যাবে। 
  • রক্তস্রাব --- যে কোনোও কারনে দেহে রক্ত স্রাব হতে থাকলে এবং বন্ধ না হলে তুলসী গাছের মুলচূর্ন ৫ গ্রাম নিয়ে পানের সঙ্গে খাইয়ে দিলে রক্তস্রাব বন্ধ হয়ে যায়। 
  • রাতকানা রোগ ---তুলসীপাতার রস এক ফোঁটা করে দুটি চোখে দিতে হবে এবং প্রত্যহ ২ ঘন্টা অন্তর সেবন করতে  হবে। এইভাবে সকাল -সন্ধ্যায় দিতে হবে প্রত্যহ  , এক মাস পর্যন্ত।  মরিচ চক্ষের পুটলির দোষ দূর করে। অতএব মরিচ ভিজে কাপড়ে রাখতে হবে। তাহলে মরিচের দানাগুলি ফুলে উঠবে। তখন তার ছাল তুলে ফেলে রেখে দুইটা হবে। তারপর তুলসীর রসের সঙ্গে পিষে বাতিক তৈরি করে নিতে হবে। সকাল-সন্ধ্যায় একটি করে বাতিক ঘষে চোখে কাজলের মতো দিতে হবে প্রথমে চোখে একটু অসহ্য লাগতে পারে। তারপর ঠিক হয়ে যাবে। এইভাবে কিছুদিনের মধ্যেই রাতকানা রোগ আরোগ্য হবে। 
  • বীর্য স্রাব --- অনেক ক্ষেত্রে বিনা কারণেই বীর্যপাত হয় ,এর প্রধান কারন শুক্রতারল্য। বীর্য পুষ্টির জন্য নেটা -করনজের বীজের শাঁস ,তুলসীর বীজ ও পিপুলের প্রত্যেকটি দ্রব্য ১০ গ্রাম পরিমানে নিয়ে ছোট ছোট বাতিক তৈরি করতে হবে।  এই একটি বাতিক সকালে আর একটি রাত্রে খেযে  গরুর দুধ পান করলে ,বীজ পুষ্ট হয়। 
  • বীর্যক্ষীণতা --- বীর্য তরল হওয়া নুপংসকতার পূর্বলক্ষণ বলা যায়। বীর্য গাঢ় এবং স্বচ্ছ হওয়া দরকার। বীর্য তরল হলে তুলসীর বীজ মিছরি প্রত্যেক পঞ্চাশ গ্রাম পরিমানে নিয়ে পেষণ করতে হবে। প্রত্যহ সকালে আড়াই গ্রাম উক্ত চূর্ণ গরুর দুধের  সঙ্গে সেবন করলে উপকার হয়। 
  • স্বপ্নদোষ ---তুলসীর মূল পেষণ করে খেলে উপকার হবে। 



------এই বিভাগে আরও জনার জন্য সুপার পোস্ট --------







Share This
Previous Post
Next Post

Pellentesque vitae lectus in mauris sollicitudin ornare sit amet eget ligula. Donec pharetra, arcu eu consectetur semper, est nulla sodales risus, vel efficitur orci justo quis tellus. Phasellus sit amet est pharetra

0 মন্তব্য(গুলি):

thank you for comment

Read More Post