Sunday, 31 December 2017

পাঁচটি দৃশ্যে পরিবর্তন করার নির্দেশ বনসালিকে নাম বদলে ‘পদ্মাবৎ’,


মুম্বই, ৩০ ডিসেম্বর (পিটিআই): অবসান হতে চলেছে ‘পদ্মাবতী’ বিতর্কের। ২৮ ডিসেম্বর সেন্ট্রাল বোর্ড অব ফিল্ম সার্টিফিকেশন বা সেন্সর বোর্ডের বিশেষ বৈঠকে এই রকম সিদ্ধান্তই নেওয়া হয়েছে। তবে এর জন্য বেশ কিছু নির্দেশ মেনে নিতে হবে সিনেমার পরিচালক সঞ্জয় লীলা বনসালিকে। শনিবার সিবিএফসি’র তরফ থেকে যে বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে, তাতে বলা হয়েছে, ‘সিনেমা নির্মাতা এবং সামাজিক আবেগের মধ্যে ভারসাম্য রেখেই এই সিদ্ধান্ত। ছবিটিকে ইউ/এ সার্টিফিকেট দিয়েই মুক্তি দেওয়ার কথা ভাবনাচিন্তা করা হয়েছে। কিন্তু এর জন্য ছবিটিতে ৫টি জায়গায় পরিবর্তন করতে হবে এবং নাম বদলে করতে হবে পদ্মাবৎ।’
কিন্তু ‘পদ্মাবৎ’ কেন? আসলে সংসদীয় প্যানেলের সামনে হাজির হয়ে পরিচালক বনসালি জানিয়েছিলেন, ‘যাবতীয় বিতর্ক অনভিপ্রেত। এই সিনেমায় ইতিহাস বিকৃত করার যে অভিযোগ উঠছে, তা ঠিক নয়। কারণ, এই সিনেমার গল্প তৈরি করা হয়েছে ষোড়শ শতকে মালিক মহম্মদ জয়সীর লেখা পদ্মাবৎ কবিতা থেকে।’ তাই যাবতীয় বিতর্কের মূলে যে নাম, সেই ‘পদ্মাবতী’কেই প্রথমে সরিয়ে ফেলতে চাইছে সেন্সর বোর্ড। এর পাশাপাশি সিনেমায় যে ৫টি জায়গায় পরিবর্তনের নির্দেশ দিয়েছে সেন্সর বোর্ড, তার মধ্যে অন্যতম হল ‘ঘুমর’ গানটির দৃশ্যায়ন। বলা হয়েছে, চরিত্রটিকে মানানসই করে তুলতে এই গানটির দৃশ্যায়নে আমূল পরিবর্তন করতে হবে। একইসঙ্গে জানানো হয়েছে, ছবির ডিসক্লেইমারে যোগ করতে হবে, ‘আমরা সতী প্রথাকে কোনওমতেই উৎসাহিত করছি না।’ পরিচালককে বলা হয়েছে, এইসব পরিবর্তনগুলি করে নতুন করে ছবিটি জমা দিলেই ছাড়পত্র মিলবে। আর সেন্সর বোর্ডের দাবি, এইসব পরিবর্তনের নির্দেশ মেনে নিয়েছেন সঞ্জয় লীলা বনসালি। যদিও রাজপুত করণী সেনার লোকেন্দ্র সিং কলভির বক্তব্য, ‘এত তাড়াতাড়ি মন্তব্য করার মতো কিছু হয়নি।’ অবশ্য প্রথমে খবর এসেছিল, সিনেমার ২৬টি জায়গায় কাঁচি চালানোর জন্য পরিচালককে নির্দেশ দিয়েছে সেন্সর বোর্ড। এর পরিপ্রেক্ষিতে সিবিএফসি’র চেয়ারম্যান প্রসূন যোশি বলেন, ‘২৬টি জায়গায় কাটছাঁট করার যে জল্পনা ছড়িয়েছে, তা ভিত্তিহীন। আমরা শুধুমাত্র ৫টি জায়গায় পরিবর্তনের নির্দেশ দিয়েছি। কোনও জায়গা কাটছাঁট করার কথা বলা হয়নি।’ 
১৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে সঞ্জয় লীলা বনসালির এই সিনেমার গল্প প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয় বিতর্ক। অভিযোগ ওঠে, চিতোরের রানি পদ্মাবতীর চরিত্রায়নে ইতিহাসকে বিকৃত করা হয়েছে। এই দাবিকে হাতিয়ার করেই আসরে নামে করণী সেনা। দীপিকা পাড়ুকোন, সঞ্জয় লীলা বনসালির মাথা কেটে আনা, জ্যান্ত পুড়িয়ে মারার জন্য কোটি কোটি টাকার নগদ পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়। এমনকী পশ্চিমবঙ্গে এই ছবি প্রদর্শনের আহ্বান জানানোয় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও কুৎসিত ভাষায় আক্রমণ করেন হরিয়ানা জেলার দলের প্রধান মিডিয়া আহ্বায়ক সুরজপাল আমু।
এইসব বিতর্কের জেরে সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র না মেলায় মুক্তি পিছিয়ে দিতে হয় ছবিটির। ১ ডিসেম্বর এটি মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল। এরপর সেন্সর বোর্ড উদয়পুরের অরবিন্দ সিং, জয়পুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ডঃ চন্দ্রমণি সিং এবং অধ্যাপক কে কে সিংকে নিয়ে বিশেষ প্যানেল গড়ে। এই প্যানেলই সিবিএফসি’কে এই সুপারিশগুলি করেছে।
Share This
Previous Post
Next Post

Pellentesque vitae lectus in mauris sollicitudin ornare sit amet eget ligula. Donec pharetra, arcu eu consectetur semper, est nulla sodales risus, vel efficitur orci justo quis tellus. Phasellus sit amet est pharetra

0 মন্তব্য(গুলি):

thank you for comment

Read More Post